থানচিতে আটকা পড়েছে শতাধিক পর্যটক

  06-07-2026 07:51PM

পিএনএস ডেস্ক: টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদী, রেমাক্রী খালসহ ছোট-বড় অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার দুর্গম বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার (৫ জুলাই) থেকে থানচিতে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নৌযান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

থানচি পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা জানান, রেমাক্রী খালের পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘নাফাখুম’ এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৫০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের থানচি সদরে ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানিয়েছেন, রেমাক্রী মূল এলাকায় আরও ২০ থেকে ৩০ জন পর্যটক আটকে আছেন।

মংপ্রুঅং মারমা আরও জানান, তিন্দুর বিপজ্জনক পর্যটন এলাকা ‘বড় পাথর’ নামক স্থানে পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত, এর আগেই মাঝি পর্যটকদের নদীর তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

ইউএনও বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদী ও পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বাড়ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণের ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক, গাইড ও নৌযানচালকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল এবং নৌকা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন