‘ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা’

  11-02-2026 06:06PM

পিএনএস ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ভোটকেন্দ্রে নাশকতা, জালভোট প্রদান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ফলাফলকে কেন্দ্র করে সহিংসতার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অমান্যকারীদের জন্য কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

র‍্যাব জানিয়েছে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে তিনটি ধাপে ভাগ করে নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে-

১. নির্বাচনপূর্ব সময়।

২. ভোটগ্রহণের দিন।

৩. নির্বাচন-পরবর্তী সময়।

মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ফাল্গুনে শাড়ি পরব নাকি আবায়া, ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে শবনম ফারিয়া

ভোটের দিন র‍্যাব স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম হিসেবে মাঠে সক্রিয় থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’-এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্থায়ী (স্ট্যাটিক) ও মোবাইল নিরাপত্তা টিম মোতায়েন রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অযৌক্তিকভাবে বহিরাগতদের কেন্দ্রে অবস্থান নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, বড় অঙ্কের সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা শনাক্ত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোথাও যদি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ভোটগ্রহণে প্রভাব ফেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিতে পারে।

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।

এএইচএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন