ঢাকায় সৌদি প্রবাসীর খণ্ডিত লাশ: প্রেমিকার বান্ধবীর ‘স্বীকারোক্তি’

  19-05-2026 07:41PM


পিএনএস ডেস্ক: ঢাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার ৮ টুকরা লাশ উদ্ধারের মামলায় প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বান্ধবী হেলেনা বেগম আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন।

আর হেলেনার মেয়ে কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মারুফুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই এনামুল হক মিঠু তাদের আদালতে হাজির করেন। হেলেনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড এবং হালিমাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশ কর্মকর্তা মারুফুজ্জামান বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীন হেলেনার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আর হেলেনার মেয়েকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান।

৩৮ বছর বয়সি মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তালশহরে; রোববার মুগদার মান্ডা থেকে কয়েক টুকরা লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সোমবার বিকালে র‍্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার রহস্য তুলে ধরে স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান বলেন, নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরেক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আকতারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মোকাররম। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় এসে সরাসরি মুগদার মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি।

এক কক্ষের সেই বাসায় হেলেনা তার ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকেন। মোকাররমের আসার খবরে সেদিনই তাসলিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওই বাসায় যান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরকীয়ার সময় দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়। ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও ধারণ করা হয়। মান্ডার সেই বাসায় তাসলিমা-মোকাররমের বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, “তাসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হলে মোকাররম তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন। হেলেনার অভিযোগ, মোকাররম তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন।

“এ পরিস্থিতিতে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। কিছুটা চেতনা থাকায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সবাই মিলে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করেন।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “লাশের টুকরা পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছাকাছি আবর্জনার স্তূপে তারা ফেলে দেন। মাথা ফেলে আসেন দূরে। ঘটনার পরদিন তারা বাইরে ঘোরাফেরা করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে তারা বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেন।

“দুইদিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর রোববার রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।”

এ ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ ও র‌্যাব।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন