ফাঁসির অপেক্ষায় কনডেম সেলে থাকা স্বপ্নার দিন কাটছে যেভাবে?

  30-06-2026 04:43PM


পিএনএস ডেস্ক: ‘জীবনসঙ্গীর পাপে আজ আমার জীবন নিষ্পেষিত। বাবা-মায়ের কথা মেনে সোহেলকে বিয়ে না করলে হয়তো এমন খেসারত দিতে হতো না। জেনেশুনে একজন মাদকাসক্তকে বিয়ে করার এমন করুণ পরিণতিও হয়তো ভোগ করতে হতো না।’ এমন আক্ষেপ করেন কনডেম সেলে ফাঁসির অপেক্ষায় থাকা সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা হত্যার আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।

কারাগার সূত্র জানায়, কনডেম সেলে কান্নাকাটিতেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে স্বপ্নার। প্রথম ভেঙে যাওয়া সংসারে রেখে আসা নিজের ছেলে আর মায়ের মুখ মনে করে কাঁদেন তিনি।

স্বপ্নার বাড়ি নাটোরের সিংড়ার চৌগ্রামে। ২০১২-১৩ সালের দিকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় রুহুল আমিন নামে এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে ছেলে সন্তান হয়। ছেলের বয়স যখন তিন বছর, তখন স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। ডিভোর্সের পর স্বপ্না মায়ের কাছে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে পরিবার থেকে আবার বিয়ে করতে বললে সন্তানের কথা চিন্তা করে রাজি হননি। একদিন তার এক চাচা সোহেলকে (বর্তমান স্বামী) তাদের বাসায় নিয়ে আসেন। এলাকার লোকজন সোহেল সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‌‌‌‘এই ছেলে ভালো নয়, নেশা করে।’ স্বপ্নার বাবা-মা ও চাচাও বিয়েতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু ২০২৩ সালে বাবা-মাকে না জানিয়েই সোহেলের সঙ্গে বিয়ে করে ফেলেন স্বপ্না।

স্বপ্না জানান, সোহেল প্রতিদিন পাঁচ পিস ইয়াবা সেবন করতেন। ইয়াবা খেতে নিষেধ করলে বলতেন আর খাবেন না, ছেড়ে দেবেন। সোহেলের পূর্বে একটি বিয়েও হয়েছিল। বিয়ের পর তারা নারায়ণগঞ্জ, সাভারের বাইপাইল, মিরপুর বিহারি ক্যাম্প ও শেষে মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। সেখানে সোহেল মেকানিকের কাজ করতেন।

ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বপ্না ঘুম থেকে ওঠেন। সোহেল তাকে ওষুধ দিয়ে কাজে চলে যেতে বলেন। পরে বাইরে থেকে দরজা ধাক্কানোর শব্দ শুনে ঘুম থেকে ওঠেন স্বপ্না। তখন তিনি রক্ত দেখতে পান। পরে লোকজন দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ এবং বালতিতে তার মাথা দেখতে পান।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সোহেল। এরপর লাশ গুম করতে ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করেন। হত্যাকাণ্ডে স্বপ্না সরাসরি সহযোগিতা করেন এবং সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দেন। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্নাকে, এরপর সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন