ক্ষমতার লোভে যেভাবে শত্রু ‘ইসরায়েলের’ সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ

  14-07-2026 06:19PM

পিএনএস ডেস্ক: যুদ্ধে যেমন পারদর্শী ইসরায়েল, তেমনি ষড়যন্ত্রেও তারা কম যায় না। মাঠে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী আর পেছনে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বজুড়ে তাদের স্বার্থরক্ষায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।

এমনই এক চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, বর্তমান নেতৃত্বকে হটিয়ে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। ষড়যন্ত্রটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আহমাদিনেজাদ বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।

এর আগে গত মে মাসেও নিউইয়র্ক টাইমস এ ধরনের একটি ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক আভাস দিয়েছিল।

তবে এবার ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ’ও এই গোপন অভিযানের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। অপারেশনটির কোড নাম ছিল ‘অপারেশন পুস ইন বুটস’। বছরের পর বছর ধরে মোসাদ এ ষড়যন্ত্রটি চালিয়ে আসছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের দূরত্ব তৈরি হয়। এই সুযোগটিই লুফে নেয় মোসাদ। তারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আহমাদিনেজাদকে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখে। ফলে তিনি ধীরে ধীরে ইরানের কিছু নেতার সমালোচনা করতে শুরু করেন।

আহমাদিনেজাদ বিশ্বাস করতেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেই কেবল তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। একসময় ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হলেও ক্ষমতার লোভে আহমাদিনেজাদ মোসাদের ফাঁদে পা দেন।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে মোসাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক হয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে আহমাদিনেজাদ সেখানে গিয়েছিলেন। সম্মেলনের আয়োজক লুদোভিকা ইউনিভার্সিটির রেক্টর গেরগেলি ডেলি জানান, সম্মেলন চলাকালে আহমাদিনেজাদ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছিল।

২০২৫ সালে আহমাদিনেজাদ আবারও হাঙ্গেরিতে যান এবং মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মোসাদের তখনকার প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকগুলোর সময় আহমাদিনেজাদের সব খরচ ইসরায়েলই বহন করেছিল। তবে আহমাদিনেজাদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সিনিয়র উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ টাকার জন্য এটি করবেন না। তার টাকা আছে, তার একটি বিশাল অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও রয়েছে। তিনি এটি ক্ষমতার জন্য করবেন। তিনি ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে চান।’

চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকে মোসাদ তাদের পুরোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে একটি ইসরায়েলি বিমান আঘাত হানে। এটি ছিল আসলে একটি কাভার। হামলার পরপরই মোসাদ এজেন্টরা একটি কালো গাড়িতে করে আহেমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই একটি গোপন সেফ হাউজে নিয়ে যায়। তবে এবারের আয়োজনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আহমাদিনেজাদ। তাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইসরায়েলের বৃহত্তর পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে অস্পষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে তিনি সেই সেফ হাউজ ত্যাগ করেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ পরে ইসরায়েলের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের কথিত যোগাযোগের কথা জানতে পারে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড-আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখা তার ওপর নজরদারি রাখছে। সেফ হাউজ ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদকে আর কোথাও দেখা যায়নি। অবশেষে গত সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার মিছিলে অল্প সময়ের জন্য তাকে দেখা গিয়েছিল।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তা বা মোসাদ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে এই দাবিগুলোকে ‘হলিউড মার্কা গল্প এবং ‘ভুয়া খবর’ বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন