পিএনএস ডেস্ক: মানবজীবনে আনন্দ-বেদনা, ভয় এবং ক্রোধের মুহূর্ত আসবেই। জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা হলো এর অনিশ্চয়তা, আর এই অনিশ্চয়তার মাঝে একমাত্র প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা খুঁজে পাওয়া যায় মহান আল্লাহর স্মরণে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী, ধৈর্য ধারণ করা কেবল একটি গুণ নয়, বরং এটি ইবাদতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ, যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি নিজেকে পূর্ণভাবে সমর্পণ করে।
ধৈর্য ও এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের ১০টি বিশেষ আয়াত নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সৎকর্মশীলদের পুরস্কার: ‘ধৈর্য ধারণ করো (অটল থাক); নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।’ (সুরা হুদ: ১১৫)
ধৈর্য ধারণ করা নিজেই একটি ইবাদত এবং আল্লাহ কখনোই ধৈর্যশীলদের পুরস্কার বিফলে যেতে দেন না।
২. আল্লাহর সাহায্যই ধৈর্যের উৎস: ‘ধৈর্য ধারণ করুন, আপনার ধৈর্য তো আল্লাহরই সাহায্যের মাধ্যমে। তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে বিচলিত হবেন না।’ (সুরা নাহল: ১২৭)
৩. আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য: ‘অতএব ধৈর্য ধরুন। নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, আর যারা বিশ্বাস করে না তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।’ (সুরা আর-রুম: ৬০)
জীবনের কঠিন সময়ে ঈমানের ওপর অবিচল থাকতে এই আয়াত আমাদের সাহস জোগায়।
৪. বিনীতদের জন্য ধৈর্য ও প্রার্থনা: ‘ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; অবশ্যই তা কঠিন, কিন্তু বিনয়ীদের জন্য নয়।’ (সুরা বাকারা: ৪৫)
যারা বিনয়ী এবং বিশ্বাস করে যে জীবনের সুখ-দুঃখ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আশীর্বাদ, তাদের জন্য ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয়।
৫. উত্তম চরিত্র অর্জন: ‘কেবল তারাই এটি (উত্তম গুণ) লাভ করতে পারে যারা ধৈর্যের সাথে অটল থাকে, কেবল তারাই এর অধিকারী হয় যারা মহাভাগ্যবান।’ (সুরা ফুসসিলাত: ৩৫)
আন্তরিক হৃদয়ে ধৈর্য চর্চা করলে তা জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার বয়ে আনে।
৬. সাফল্যের জন্য ধৈর্য: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধরো, ধৈর্যে অটল থাকো, একে অপরকে শক্তিশালী করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আল-ইমরান: ২০০)
ধৈর্য কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য যা সফলতার পথ প্রশস্ত করে।
৭. আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, নতুবা তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা আনফাল: ৪৬)
মুমিনদের জন্য এর চেয়ে বড় সান্ত্বনা আর হতে পারে না যে, কষ্টের সময়ে আল্লাহ স্বয়ং তাদের পাশে থাকেন।
৮. নবীগণের আদর্শ ও দৃঢ়তা: ‘অনেক নবীই যুদ্ধ করেছেন এবং তাঁদের সাথে অনেক আল্লাহভীরু লোক ছিল। আল্লাহর পথে তাদের ওপর যে বিপদ এসেছিল তাতে তারা সাহস হারায়নি, দুর্বল হয়নি এবং নতি স্বীকার করেনি। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আল-ইমরান :১৪৬)
নবীদের জীবনের এই গল্পগুলো আমাদের প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণের শক্তি জোগায়।
৯. দৃঢ় সংকল্পের পরিচয়: ‘হে প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং তোমার ওপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধরো। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ।’ (সুরা লোকমান: ১৭)
ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ পায়।
১০. পরীক্ষা ও সুসংবাদ: ‘‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যারা বিপদে পড়লে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী...।’’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)
জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যারা ধৈর্যের পরিচয় দেয়, তাদের ওপরই আল্লাহর রহমত ও সঠিক পথনির্দেশনা বর্ষিত হয়।
দ্য মুসলিম ভাইব অবলম্বনে
পিএনএস/এএ
আল কোরআনে ধৈর্যের নির্দেশনা
14-07-2026 06:52PM

