মুহাররম ও আশুরার ফজিলত – করণীয় আমল এবং বর্জনীয় কুসংস্কার

  26-06-2026 01:20PM


পিএনএস ডেস্ক: হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররম। কুরআনে বর্ণিত চারটি হারাম মাস বা সম্মানীত মাস হচ্ছে জিলকদ, জিলহজ্জ, মুহাররম ও রজব। এই চার মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ। সকল পাপাচার অন্যান্য মাসে যেমন নিষিদ্ধ, এমাসে আরো কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে মুহাররম মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলে অভিহিত করা হয়েছে।

কুরআন ও হাদীস দ্বারা মুহাররম মাসের মর্যাদা ও ফজিলত সুসংহত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানে মুসলিম সমাজে আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপরে উল্লেখিত তাৎপর্যের ব্যতিক্রম। বর্তমানে শিয়া সম্প্রদায়ের শিরকী-বিদআতী আক্বিদা ও কর্মকান্ডের কারণে মুহাররম ও আশুরা বলতেই অনেকে কেবল কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাসকেই বুঝে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মুহাররম ও আশুরার দিবসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলসমূহ কারবালার ঘটনার অন্তত ৫০ বছর আগেই সুস্পষ্ট ভাবে কুরআন ও হাদীস দ্বারা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে।

আজকের এই পোস্টে কুরআন, হাদীসের আলোকে হক্কানী আলেমদের মাধ্যমে প্রাপ্ত বক্তব্যগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। যার তথ্যসূত্র পোস্টের শেষে পাওয়া যাবে। এই লেখার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব কুরআন ও সুন্নাহ এর আলোকে মুহাররম মাসের মর্যাদা, ফজিলত, আমল ও করণীয় সম্পর্কে।

এছাড়াও জানব মুহাররম মাসের বিশেষ ঘটনাবলী সম্পর্কে। এমন কিছু ঘটনা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হবে যেগুলো সমাজে প্রচলিত রয়েছে কিন্তু তা বিশুদ্ধতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারে নাই। পাশাপাশি জানব মুহাররম মাস সম্পর্কে কিছু কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারনা সম্পর্কে।

মুহাররম সম্মানীত মাসঃ প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াত
কুরআনুল কারীমে চারটি মাসকে সম্মানীত ও হারাম মাস হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। এই চারটি মাসে যুদ্ধবিগ্রহ ও নিজের প্রতি জুলুম বা পাপ কাজ বিশেষ ভাবে নিষিদ্ধ।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كتبِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا اربعة حرم ذلك الدِّينُ الْقَيِّمُهُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ .

অনুবাদঃ নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাসগুলোর সংখ্যা বারটি, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তার মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম কর না এবং তোমরা মুশরিকদের সাথে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে এবং জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে
আছেন। (সূরা তাওবা, আয়াত ৩৬)

উক্ত আয়াতে চারটি নিষিদ্ধ মাস বলতে মুহাররমকেও বুঝানো হয়েছে। যা বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

মুহাররম সম্মানীত মাসঃ প্রাসঙ্গিক হাদীস
নবীজির (সা) বিদায় হজ্জের ভাষণ সম্পর্কে বুখারী শরীফের একটি হাদীসের অংশ বিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো। যেখানে চারটি নিষিদ্ধ মাসের পরিচয় দেয়া হয়েছেঃ "সময় ও কাল আবর্তিত হয় নিজ চক্রে। যেদিন থেকে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এক বছর হয় বার মাসে। এর মধ্যে চার মাস সম্মানিত। তিনমাস ক্রমান্বয়ে আসে-যেমন যিলকদ, যিলহাজ ও মুহাররম এবং রজব মুদার বা জমাদিউল আখির ও শাবান মাসের মাঝে হয়ে থাকে।..."
(বুখারী ৪৪০৬)

মুহাররম মাসের রোজার ফজিলত ও আমল

মুহাররম মাসে আমরা কী কী আমল করতে পারি সে ব্যাপারে আলেমগণ নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন:
1. একান্ত অপারণ না হলে শুধুমাত্র আশুরার দিন অর্থাৎ মহরমের ১০ তারিখ একটি মাত্র রোজা রাখা অনুচিত। বরং আমাদের উচিত মুহাররমের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ অন্তত দুই দিন রোজা রাখা। আশুরার রোজা দুইটি রাখা উত্তম।

2. নবীজি (সা) বলেছেন মুহাররম আল্লাহর মাস। তাই এতে বেশি বেশি রোজা রাখা চাই। এমাসের আইয়ামে বীজের রোজা এবং সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজাগুলো রাখার চেষ্টা করি।

3. তওবা ইস্তিগফার করা। এ মাসে অতীতের একটি গোত্রের তওবা কবুল করা হয়েছিল। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীদের অনেকের তওবা এই মাসে কবুল হবে।

4. দরুদ শরীফ পড়া। তওবা-ইস্তিগফার ও দুআ কবুলের জন্য অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে দরুদ শরীফ। পড়া। তাই যখনই আমরা ইস্তেগফার বা দুআ করব সাথে সাথে দরুদ পাঠ করব।

5. এটা যেহেতু সম্মানীত মাস, তাই এ মাসের সমম্মানে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত। এ মাসের আইয়ামে বীজের রোজা কবে?
নিচে মহরমের রোজা সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলোঃ

মহরমের রোজাঃ হাদীস ১ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
রমযান মাসের রোযার পরে আল্লাহ তা'আলার মাস মুহাররমের রোযাই সবচেয়ে ফাযীলাতপূর্ণ।
(তিরমিযি ৭৪০)

প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজার ফজিলত

তাই আসুন, আমরা মুহাররম মাস জুড়েই সাধ্য মত বেশি বেশি রোজা রাখি। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং হিজরি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো রাখি। কারণ মুহাররম আল্লাহর মাস। আর রোজাও শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ ঘোষণা করেছেন রোজার প্রতিদান তিনি নিজেই দিবেন।
আশুরা শব্দের অর্থ কী? আশুরার রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

আশুরা শব্দের অর্থ দশম। ইসলামী পরিভাষায় মুহাররমের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। এ দিনটিতে নবীজি (সা) বিশেষ গুরুত্ব সহকারে রোজা রাখতেন। ইহুদীরাও আশুরার দিন রোজা রাখত। তাদের সাথে পার্থক্য করার জন্য নবী (সা) মুহাররমের ১০ তারিখের সাথে এর আগে বা পরে একদিন বেশি রোজার রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নিম্নোক্ত রোজার ফজিলতগুলো নবীজি (সা) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার অন্তত ৫০ বছর আগে। তাই এই রোজার সাথে কারবালার ঘটনাকে যেন আমরা মিলিয়ে না ফেলি। বা মনে না করি যে, কারবালার ঘটনার জন্যই এই রোজাগুলো রাখা হচ্ছে।

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হিজরত করে) মাদীনায় এলেন এবং তিনি ইয়াহুদীদেরকে 'আশুরার দিন সিয়াম পালন করতে দেখতে পেলেন। এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এ সে দিন যে দিন আল্লাহ মুসা ('আঃ) ও বাণী ইসরাঈলকে ফির 'আগুনের উপর বিজয়ী করেছেন। তাঁর সম্মানার্থে আমরা সওম পালন করে থাকি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা ('আঃ)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম ২৫৪৬)

মুহাররম মাসের ফজিলত সম্পর্কে কিছু দুর্বল, জাল ও বানোয়াট কথা

1. "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য প্রশস্তভাবে খরচ করবে, আল্লাহ সারা বছরই সে ব্যক্তিকে প্রশস্ত রিযক প্রদান করবেন'। হাদীসটির বর্ণনাসূত্র অত্যন্ত আপত্তিকর ও খুবই দুর্বল।
অনেক ইমাম একে জাল হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।

2. মুহাররম মাসে বা আশুরার দিনে দান-সাদকার বিষয়ে যা কিছু বলা হয় সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে এ বিষয়ে কিছুই বর্ণিত হয় নি। তবে অত্যন্ত দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য সূত্রে একজন সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, আশুরার দিনে সিয়াম পালন করলে যেহেতু এক বছরের সাওয়াব পাওয়া যায়, সেহেতু এ দিনে দান করলেও এক বছরের দানের সাওয়াব পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া এ দিনে দানের বিষয়ে যা কিছু বলা হয় সবই বাতিল ও ভিত্তিহীন কথা।

3. "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে চোখে 'ইসমিদ' সুরমা ব্যবহার করবে কখনোই তার চোখ উঠবে না।"-অধিকাংশ মুহাদ্দীসের মতে এটি জাল ও বানোয়াট কথা। অনেক মুহাদ্দীস বলেনঃ হুসাইন (রা) এর হত্যাকারীরাই এদিন সুরমা ব্যবহারের বিদআত চালু করেছে।

4. মুহাররম মাসের কোনো দিবসে বা রাত্রে এবং আশুরার দিবসে বা রাত্রে কোনো বিশেষ সালাত আদায়ের কোনো প্রকার নির্দেশনা বা উৎসাহ কোনো হাদীসে বর্ণিত হয় নি। এ বিষয়ক সকল কথাই বানোয়াট। আমাদের দেশে প্রচলিত কোনো কোনো পুস্তকে মহরম মাসের ১ম তারিখে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে বিশেষ দোয়া পাঠের বিশেষ ফযীলতের বিবরণ দেয়া হয়েছে। এগুলো সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।

5. "যে ব্যক্তি আশুরার দিবসে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে। অথবা আশুরার রাত্রিতে এত রাকআত সালাত অমুক অমুক সূরা এতবার পাঠ করে আদায় করবে, সে এত পুরস্কার লাভকরবে।" সরলপ্রাণ মুসলিমদের মন জয় করার জন্য জালিয়াতগণ এ সকল কথা বানিয়েছে, যা অনেক সময় সরলপ্রাণ আলিম ও বুযুর্গকেও ধোঁকা দিয়েছে।

6. "যে ব্যক্তি মহররমের মাসে রোযা রাখিবে, আল্লাহ তা'আলা তাহাকে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ৩০ দিন রোযা রাখার সমান ছওয়াব দিবেন। আরও হাদীছে আছে- যে ব্যক্তি আশুরার দিন একটি রোযা রাখিবে সে দশ হাজার ফেরেশতার, দশ হাজার শহীদের ও দশ হাজার হাজীর ছওয়াব পাইবে।

আরও হাদীছে আছে- যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে স্নেহ-পরবশ হইয়া কোন এতীমের মাথায় হাত ঘুরাইবে, আল্লাহতাআলা ঐ এতীমের মাথার প্রত্যেক চুলের পরিবর্তে তাহাকে বেহেশতের এক একটি 'দরজা' প্রদান করিবেন। আর যে ব্যক্তি উক্ত তারিখের সন্ধ্যায় রোযাদারকে খানা খাওয়াইবে বা ইফতার করাইবে, সে ব্যক্তি সমস্ত উম্মতে মোহাম্মদীকে খানা। খাওয়াইবার ও ইফতার করাইবার ন্যায় ছওয়াব পাইবে।' এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা

7. "যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখিবে, সে ৬০ বৎসর রোযা নামায করার সমতুল্য ছওয়াব পাইবে। যে ব্যক্তি ঐ তারিখে বিমার পোরজী করিবে, সে সমস্ত আওলাদে আদমের বিমার-পোরছী করার সমতুল্য ছওয়াব পাইবে।... তাহার পরিবারের ফারাগতি অবস্থা হইবে। ৪০ বৎসরের গুনাহর কাফফারা হইয়া যাইবে'। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা

৪. 'যে ব্যক্তি মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখিবে, সে ব্যক্তি যেন ১০ হাজার বৎসর যাবত দিনের বেলা রোজা রাখিল এবং রাত্রিবেলা ইবাদতে জাগরিত থাকিল।... মহররম মাসে ইবাদতকারী ব্যক্তি যেন কদরের রাত্রির ইবাদতের ফযীলত লাভ করিল।... তোমরা আল্লাহ তা'আলার পছন্দনীয় মাস মহররমের প্রতি সম্যান প্রদর্শন করিও। যেই ব্যক্তি মহররম মাসের সম্মান করিবে, আল্লাহ তাআলা তাহাকে জান্নাতের মধ্যে সম্মানিত করিবেন এবং জাহান্নামের আযাব হইতে বাঁচাইয়া রাখিবেন... মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখা আদম (আ) ও অন্যান্য নবীদের উপর ফরজ ছিল। এই দিবসে ২০০০ নবী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন এবং ২০০০ নবীর দোয়া কবুল করা হইয়াছে'। এগুলো সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।

মুহাররম মাসের কিছু বর্জনীয় কুসংস্কার ও কুপ্রথা

মুহাররম মাসকে আল্লাহ সম্যানীত করেছেন। এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করেছেন। নিজের উপর জুলুম করা বা পাপ কাজগুলোকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে শীয়া ধর্মের অনুসারীদের অপচেষ্টার কারণে মুহাররম মাসে মুসলিম সমাজ নানাবিধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা দ্বারা আক্রান্ত। অনেক মুসলিম জানেই না যে কারবালার ঘটনার আরো অন্তত ৫০ বছর বা আরো আগেই আশুরার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

আমাদের সমাজে মুহাররম ও আশুরার দিবস সংক্রান্ত যত ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার ও কুপ্রথা প্রচলিত রয়েছে তার থেকে কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো।

1. মুহাররম মাসকে "অপয়া" বা "কুলক্ষুণে” মনে করা। মুহাররম মাসকে সমাজের অনেক মানুষই "অশুভ' মনে করে। এজন্য মুহাররম মাসে বিয়েশাদী বা কোনো ভাল আচার-অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে। এই ধারণাটি নিঃসন্দেহে শীয়া সম্প্রদায়ের বিভ্রান্তিমূলক বিশ্বাস ও কার্যক্রম থেকে জন্ম নিয়েছে। কুরআনে মুহাররম মাসকে সম্মানীত মাস বলা হয়েছে। আর শীয়াদের থেকে প্রভাবিত হয়ে আমরা অনেকে এই সম্মানীত মাসকে 'অশুভ' বা 'অপয়া' মাস বলে নেগলেট করি।

2. মুহাররম মাস জুড়ে বা মাসের কিছু অংশ শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে কালো বা সবুজ কাপড় পরিধান করা।

3. শোকের মাস বা অশুভ মাস মনে করে মাছ, গোশত খাওয়া যাবে না। এটাও একটি কুসংস্কার।

4. এ মাসকে শোকের মাস মনে করে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া যাবে না। এটাও একটি কুসংস্কার।

5. সারা বছর ভাল খাওয়ার যাবে এমন ধারণা পোষণ করে আশুরার দিন উত্তম খাবার খাওয়া। এটাও ভিত্তিহীন একটি রেওয়াজ।

6. আশুরা উপলক্ষ্যে সমবেত হয়ে ইবাদত বন্দেগী করা। এটাও অনুচিত। কারণ সম্মিলিত ভাবে এই দিনে ইবাদতের কোনো নজির হাদীসে নাই।

7. আশুরাকে কেন্দ্র করে বিরানী, খিচুড়ি ইত্যাদির সমন্বয়ে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন