দেশের ৯ জেলায় বন্যা নিয়ে সতর্কতা

  16-07-2026 07:54PM

পিএনএস ডেস্ক: সুরমা নদীর পানি কমতে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে আগামী রোববার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৯ জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, যে দুটি পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে আছে, সেখানে পানি নেমে যাবে। উজানে ভারত থেকে আসা পানির ঢলও নেই এখন। বৃষ্টিপাতও কমেছে। সব মিলিয়ে এখানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, তবে, এর প্রভাবেও দুই জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আগামী তিন দিনে নেই।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে, অন্যদিকে সুরমা নদীর পানি কমেছে; যা আগামী তিন দিন কমতে পারে। এদিন সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। গেল ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই ও সারিগোয়াইন নদীর পানি বেড়েছে; যা আগামী তিন দিন কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কমেছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি ইত্যাদি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজমান আছে। আগামী তিন দিন নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান জানান, চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে (১৯-২৩ জুলাই) উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দুদিন আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ১৬ জুলাই হতে ২৩ জুলাই অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও হিমালয়-পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতসহ সামগ্রিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

এ সময় এসব অঞ্চল ও সংলগ্ন উজানে স্থানভেদে আগামী ৭ দিনে সর্বোচ্চ সর্বমোট ২৫০-৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আরও ঘনীভূত হতে পারে লঘুচাপ, সতর্কতা সংকেত বহাল: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা দেখলেও নিম্নচাপের আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অফিস। তবে এর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে।

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, জুলাই মাসে বৃষ্টি কিন্তু মোটামুটি হয়। সব জায়গায়, কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হবে। কিন্তু একটানা সারা দেশে একসঙ্গে যে দুই-তিন দিন বৃষ্টি, ওই বৃষ্টিটা হয়তো হবে না। বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হবে।

বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে শুক্রবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

শনিবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। শুক্র ও শনিবার সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন