অবিরাম বর্ষণে অচল রাজধানী, জলাবদ্ধতায় নাকাল কর্মজীবীরা

  12-07-2026 01:35PM

পিএনএস ডেস্ক: আষাঢ়ের শেষ ভাগে এসে নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রবিবার (১২ জুলাই) সকাল পেরিয়ে দুপুরেও থামেনি। মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পুরান ঢাকা, মালিবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে ময়লা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। পানি জমে থাকায় ছোট যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি পানিতে আটকে পড়ে।

মতিঝিলের শাপলা চত্বর, দিলকুশা, আরামবাগ ও আশপাশের সড়কে সকাল থেকেই পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অফিসগামী কর্মীরা ছাতা হাতে কিংবা প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে পৌঁছান।

ফকিরাপুল ও কমলাপুরমুখী সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণে বাসের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম। ফলে বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, বংশাল, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর ও চকবাজারের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুললেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। অনেক দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

মালিবাগ, মৌচাক ও শান্তিনগর এলাকায় সড়কের পাশে জমে থাকা পানির কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অফিসগামীদের অনেকেই রিকশা বা সিএনজি না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যেসব যানবাহন পাওয়া গেছে, সেগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, সোবহানবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও আশপাশের এলাকাতেও একই চিত্র দেখা যায়। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় অনেক পথচারীকে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।

অফিসগামী এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সকাল থেকে বাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে পানি জমে থাকায় সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রিকশা ও সিএনজি চালকেরাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছেন।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টি হলেই রাজধানীর একই চিত্র দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে অপ্রয়োজনে কাউকে বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন