পিএনএস ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতার কাছে চাঁদা না পেয়ে এক নারীসহ তিনজনকে টানা পাঁচ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায় সাভারের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও শুটার বাপ্পী।
শনিবার (২৫ জুলাই) জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার শরীফ মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফ চৌধুরীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফ চৌধুরীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পী। চাঁদার টাকা আদায়ে জন্য শনিবার সকাল ৭টার দিকে শরীফ চৌধুরীর পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে অতর্কিত হানা দেয় সে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষুব্ধ বাপ্পী বাসায় থাকা মার্কেট ম্যানেজার লিমা আক্তার, বাসার কেয়ারটেকার ও স্যানিটারি মিস্ত্রিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। তারা যাতে বাইরের কারো সাথে যেন যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্য শুরুতেই ম্যানেজার লিমাসহ তিনজনের কাছে থাকা সব মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রের মুখে নারী ম্যানেজারকে জিম্মি রেখে ঘরের লকার, আলমারি ও অফিসের ড্রয়ার তল্লাশি করে বাপ্পী।
পুলিশ আরো জানায়, দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ শরীফ মার্কেটে অভিযানে গেলে শুটার বাপ্পী দুই হাতে দুই পিস্তল নিয়ে এলোপাতাড়ি ৭-৮ রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ৪-৫ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছুড়েছিল। তবে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতার স্ত্রী মাহি চৌধুরী বলেন, “শুটার বাপ্পী দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী শরীফ চৌধুরীর কাছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। টাকা না দেওয়ায় এর আগে গাড়ি আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিল। শনিবার সকালে চাঁদার জন্য এসে আমাদের মার্কেট ম্যানেজার লিমাসহ তিনজনকে অস্ত্রের মুখে পাঁচ ঘণ্টা জিম্মি করে রেখে সব তছনছ করে। জেল থেকে বের হয়ে সে আবার এই চাঁদাবাজির রাজত্ব শুরু করেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
পাঁচ ঘণ্টার রোমহর্ষক জিম্মিদশার বর্ণনা দিয়ে মার্কেট ম্যানেজার লিমা আক্তার বলেছেন, “সকালে ৭টায় বাপ্পী মার্কেটের ওপরের বাসায় ঢুকে সবার ফোন কেড়ে নেয় ও পিস্তল উঁচিয়ে জিম্মি করে রাখে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। বাপ্পী যেখানে-যেখানে যাচ্ছিল, সেখানেই আমাকে পিস্তলের সামনে রেখে নিয়ে যাচ্ছিল। এর পর দুপুর ১২টার দিকে যখন পুলিশ আসল, তখন বাপ্পী আমাকে একটি হ্যান্ডকাফের মতো জিনিস পরিয়ে সামনে ঢাল বানিয়ে রাখে। পুলিশ সামনে এসে লাথি মারলে সে আমাকে সামনে রেখেই দুই হাতে পিস্তল উঁচিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে বাথরুমের ওপর দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি সামনে ছিলাম বলেই পুলিশ জীবন বাঁচাতে পাল্টা গুলি করতে পারেনি। পরে আমি সরে গেলে পুলিশ গুলি করে।”
ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাপ্পী তার সহযোগীদের নিয়ে ভবনে ঢুকে কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করে। পরে টাকা না পেয়ে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে জিম্মি লিমাকে সামনে রেখে পালানোর চেষ্টা করে ও গুলিবর্ষণ করে। জিম্মিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। জিম্মি উদ্ধার হলেও কৌশলে পালিয়ে যায় বাপ্পী। এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, মূলত চাঁদাবাজির ঘটনা। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর সাথে কে কে জড়িত, তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গত বছরের ১৯ জুন মধ্যরাতে রাজধানীর ফকিরাপুলে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় এর নয় দিন পর দুই সহযোগীসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সে সময় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ ১৫১ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
পিএনএস/রাআ
নারীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি, পুলিশের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালায় বাপ্পী
26-07-2026 12:44AM

