পিএনএস ডেস্ক: ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করলেও আজ ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী ও খুনের রাস্তা অবলম্বন করেছে। অনতিবিলম্বে এ খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে আওয়ামী লীগের মতো আপনাদেরকেও দেশের জনগণ দেশছাড়া করবে।
রোববার (২১ জুন) রাতে গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গাইবান্ধায় আমাদের ভাই সাইফুল্লাহর ওপর যে বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বিএনপি-যুবদলের এ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে সাইফুল্লাহর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে সদা প্রস্তুত। যারা ক্ষমতার মোহে দেশে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তারা এখনই সতর্ক না হলে ৫ বছরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, ডাইনি হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপি আজ একটি নতুন ডাকাত দলে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, খুনী হাসিনা বলতো, এ দেশ তার বাপের দেশ। আর এখন নব্য ফ্যাসিস্ট দল বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে দেশের জনগণ যেন বাংলাদেশ তাদের কাছে ইজারা দিয়েছে। দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমা, মাঠ-ঘাটসহ এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যেখানে তারা দখলদারি এবং ডাকাতি করেনি। তাদের এই চরম অত্যাচার ও জুলুমের কারণে দেশের মানুষ আজ তীব্রভাবে ত্যক্ত-বিরক্ত।"
বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, জসকু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন সদস্যসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নেতৃবৃন্দ সাইফুল্লাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
পিএনএস/রাআ
খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে বিএনপিকেও দেশছাড়া করবে জনগণ: শিবির সভাপতি
22-06-2026 12:16AM

