ব্রাজিলের গোলরেকর্ড টপকানোর দোরগোড়ায় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

  15-07-2026 01:11AM

পিএনএস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর ইতিহাস গড়ার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। ছয় ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা করেছে ১৭ গোল, আর ফ্রান্সের ঝুলিতে ১৬ গোল। ফলে এক আসরে সর্বাধিক গোল করা দলগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ব্রাজিলের কয়েকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই ১৯৫৪ সালের অস্ট্রিয়া, ১৯৬৬ সালের পর্তুগাল এবং ১৯৭০ সালের পশ্চিম জার্মানির ১৭ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। সেমিফাইনালে একটি গোল করলেই তারা ১৯৩০ সালের আর্জেন্টিনা, ২০০২ সালের ব্রাজিল এবং ২০১৪ সালের জার্মানির ১৮ গোলের রেকর্ডে পৌঁছে যাবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের ঝুলিতে এখন ১৬ গোল। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুটি গোল করতে পারলে তারাও ১৮ গোলের ক্লাবে নাম লেখাবে। আর তিন গোল করলে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের ১৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করা সাতটি সেরা অভিযানের মধ্যে তিনটিই ব্রাজিলের। এর মধ্যে—
• ব্রাজিল (১৯৫০): ২২ গোল (৬ ম্যাচ)
• ব্রাজিল (১৯৭০): ১৯ গোল (৬ ম্যাচ)
• ব্রাজিল (২০০২): ১৮ গোল (৭ ম্যাচ)

১৯৫০ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া ব্রাজিল ৬ ম্যাচে ২২ গোল করেছিল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯ গোল করেছিলেন অ্যাদেমির মেনেজেস।

এখনও পর্যন্ত এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মাত্র ৫ ম্যাচে তারা করেছিল ২৭ গোল। একই আসরে পশ্চিম জার্মানি করেছিল ২৫ গোল, আর ১৯৫৮ সালে জ্যাঁ ফঁতের ১৩ গোলের সুবাদে ফ্রান্স করেছিল ২৩ গোল।

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় প্রতিটি সেমিফাইনালিস্ট আগের তুলনায় একটি অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। এই পরিবর্তিত ফরম্যাটের কারণেই আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সামনে অতীতের গোলরেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

সেমিফাইনালে ওঠা অন্য দুই দল ইংল্যান্ড ও স্পেন এখন পর্যন্ত যথাক্রমে ১৩ ও ১১ গোল করেছে।

ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে
মোট গোলের হিসেবে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচপ্রতি গড় গোলের বিচারে এখনও শীর্ষে রয়েছে ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি।

• হাঙ্গেরি (১৯৫৪): ৫.৪ গোল প্রতি ম্যাচ
• পশ্চিম জার্মানি (১৯৫৪): ৪.২
• ফ্রান্স (১৯৫৮): ৩.৮
• ব্রাজিল (১৯৫০): ৩.৭
• ব্রাজিল (১৯৭০): ৩.২
• আর্জেন্টিনা (২০২৬): ২.৮
• ফ্রান্স (২০২৬): ২.৭

সেমিফাইনাল ও এরপর ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ—দুটি ম্যাচ এখনও বাকি থাকায় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সামনে ইতিহাসের রেকর্ডবই নতুন করে লেখার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন