পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল ব্রাজিল তারকা রাফিনহার। হাইতির বিপক্ষে খেলার ৪০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর আর মাঠেই নামতে পারেননি এই বার্সা তারকা।
তবে দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপই নয় শুধু, নিজের ক্লাব বার্সেলোনায়ও নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনকে দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে কাতালান ক্লাবটি আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে জায়গা হারানোর শঙ্কা থাকলেও বার্সেলোনা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই রাফিনহার।
বুধবার (স্থানীয় সময়) ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ’স পার্কে বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন রাফিনহা। ক্লাবে এটি তার পঞ্চম মৌসুম। কিন্তু এবার শুরু থেকেই তাকে লড়তে হবে একাধিক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনকে ৭০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৮২ কোটি টাকা) দিয়ে দলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সেলোনা। চুক্তিতে আরও ১০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ট্রান্সফারের মূল্য দাঁড়াতে পারে ৮০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১২২ কোটি টাকা)।
গর্ডনের পাশাপাশি জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমিকেও দলে এনেছে বার্সা। তিনিও বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। এছাড়া কোচ হান্সি ফ্লিকের হাতে ফেরান তোরেস ও ফারমিন লোপেজের মতো বিকল্পও রয়েছে। ফলে একাদশে জায়গা নিশ্চিত করতে রাফিনিয়াকে এবার কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
সৌদি আরবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন
তবে পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, বার্সেলোনা ছাড়তে রাজি নন রাফিনহা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি দলবদলের বাজারে সৌদি আরবের কয়েকটি ক্লাব থেকে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লক্ষ্য কাতালান ক্লাবেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়া।
বোর্ডের একাংশ বিক্রির পক্ষে
যদিও ক্লাবের ভেতরে সবাই একই মত পোষণ করছেন না। বার্সেলোনার কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, রাফিনিয়াকে বিক্রি করলে ক্লাব বড় অঙ্কের অর্থ আয় করতে পারবে। বর্তমানে তার বাজারমূল্যও প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো।
এছাড়া আক্রমণভাগে খেলোয়াড়ের আধিক্যও কমবে বলে মনে করছেন তারা। রাফিনিয়ার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যাও তাদের এই অবস্থানের একটি বড় কারণ। গত মৌসুমে চোটের কারণে বার্সেলোনার হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি।
ফ্লিকের পূর্ণ আস্থা
তবে ক্লাবের কিছু কর্মকর্তার মতের সঙ্গে একমত নন কোচ হান্সি ফ্লিক। জার্মান এই কোচ রাফিনহার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এবং তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে ড্রেসিংরুমে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে রাফিনিয়ার নেতৃত্বগুণ ও ইতিবাচক ভূমিকা ফ্লিকের কাছে বেশ মূল্যবান।
মাঠেও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৩৩ ম্যাচে ২১টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তাই নতুন মৌসুমে জায়গার লড়াই আরও কঠিন হলেও, নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী রাফিনিয়া।
এখন দেখার বিষয়, গর্ডন ও আদেয়েমির আগমনের পর হান্সি ফ্লিকের আক্রমণভাগে রাফিনিয়া কতটা নিয়মিত সুযোগ পান, নাকি বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারকে।
পিএনএস/রাআ
বার্সেলোয় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রাজিল তারকা রাফিনহা
28-07-2026 11:45PM

