পিএনএস ডেস্ক: নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজের এক অফিস সহকারী পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে তারা প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য তারা কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের কাছে টাকা জমা দেন এবং তিনি ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। পরে জানা যায়, শিক্ষা বোর্ডে তাদের ফি জমা দেওয়া হয়নি। পরীক্ষার আগের দিন থেকে অভিযুক্ত কর্মচারী কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি জানান, অনলাইনে জটিলতার কারণে তিনি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে ফরম পূরণের দায়িত্ব দেন। এজন্য তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। পরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে পরীক্ষার আগমুহূর্তে তিনি গা ঢাকা দেন।
একই অভিযোগ করেছেন সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির ও তানভীর হোসেনসহ আরো সাত শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন কর্মচারীর প্রতারণা ও অবহেলার কারণে আমার মেয়ের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও তাদের কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত ফরমও পূরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, যেসব শিক্ষার্থী টাকা দিয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি। ফলে অভিযোগের সব দিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
পিএনএ/রাআ
ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, পরীক্ষা দিতে পারেননি ৮ শিক্ষার্থী
02-07-2026 10:57PM

