অস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইরানে হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

  26-07-2026 10:52PM

পিএনএস ডেস্ক: হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে যুদ্ধ আরো তীব্র করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিলেন, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের উদ্বেগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে। রবিবার সিএনএন-কে বিষয়টি জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাতে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা কয়েক রাতের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তাদের বোমা হামলা অভিযান সাময়িকভাবে থামিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। শনিবার সিএনএন-কে প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানগুলো ‘স্থগিত’ রয়েছে।

সূত্রগুলো অনুসারে, শুক্রবার কেইন বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সূত্রগুলোর মধ্যে একজন জানিয়েছেন, কেইন ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জানিয়েছেন, তাদের হাতে থাকা বিকল্পগুলো তারা প্রয়োগ করতে পারে এবং সফলও হতে পারে, কিন্তু এরপর তিনি সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

উভয় সূত্রই জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্পের কাছে উত্থাপিত অনেক উদ্বেগের মধ্যে অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগও একটি ছিল। এ বিষয়ে অবগত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করে, তবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনার বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছিল।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছে যে, এমনটা করলে সম্ভাব্য বহু ইরানি নিহত হতে পারে এবং আরো অনেকে বিদ্যুৎ বা খাদ্য ছাড়া দুর্ভোগ পোহাতে পারে।

এটা বর্তমানে স্পষ্ট নয় যে, অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ অথবা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সতর্কবার্তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র টানা কয়েক রাতের হামলা স্থগিত করেছে, নাকি তারা তা অব্যাহত রাখবে।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন, তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন, কিন্তু ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যায়, তবে তিনি সব বিকল্পই খোলা রাখবেন।”

তিনি আরো বলেন, “সফল নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গেছে এবং তাদের বারবার আগ্রাসনের জবাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩ দিন হামলা চালানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের জন্য একটি সমঝোতামূলক চুক্তির দিকে কাজ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায়, তারা জানে কী ঘটবে।”

সিএনএন মন্তব্যের জন্য ভ্যান্সের দপ্তরের সাথেও যোগাযোগ করেছে। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন