রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সরকারের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  23-07-2026 03:49PM

পিএনএস ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো করণীয় নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি ঘটনা হয়, তখন আমরাও দেখব।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চান, তাহলে সাংবিধানিকভাবে সে সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। তিনি (রাষ্ট্রপতি) স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কিনা, সেটি তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিকভাবে অপশন আছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। আমিও পত্রিকায় এসব খবর দেখছি। তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার নিয়ম আছে। এরপর রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেটি পরে দেখা যাবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সাংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সেই সময় ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলোতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি তুলেছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শোনা যায় সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় তখন বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায়নি।

তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল, সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন