পিএনএস ডেস্ক: এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মহব্বত আলি খাঁ নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসী। তবে, তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এমন আপোষ-মীমাংসার ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, একইদিন দুপুর ২টার দিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত মহব্বত আলি খাঁ গৌরিগ্রাম হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, রবিবার দুপুর ২টার দিকে প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মহব্বত আলি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনাটিতে থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে একই দিন সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়।
সালিশে, মহব্বত আলিকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ২০টি জুতার বাড়ি দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই তা বাস্তবায়ন করা হয়। একইসঙ্গে উভয়পক্ষকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত মহব্বত আলিকে গুণে গুণে জুতা দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালিশকারীদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, “কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে, ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পিএনএস/রাআ
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, সালিশে শাস্তি ২০ জুতাপেটা
13-07-2026 11:50AM

