পিএনএস ডেস্ক: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক পীযুষ কান্তি ঘোষ দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতার (এমপিও’র) টাকা জমা হচ্ছে এবং সেখান থেকে একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে পীযুষ কান্তি ঘোষ কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিন বছর পর ২০০৯ সালে তিনি ঢাকায় গিয়ে অন্য পেশায় যোগ দেন। এরপর আর বিদ্যালয়ে ফেরেননি। তবে ২০১০ মধ্যে তিনি এমপিওভুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে তার সোনালী ব্যাংকের কালিয়া শাখার একটি হিসাবে (হিসাব নং ২৫০৩৯৯৯০১৫৩৯৪) সরকারি বেতন-ভাতার টাকা জমা হতে থাকে। চলতি বছরের জুন মাসেও তার হিসাবে সরকারি অর্থ জমা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রায় অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরেও পীযূষ কান্তি ঘোষকে এমপিওভুক্ত করা এবং বেতন উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পীযুষ কান্তির বেতন বন্ধ রাখেন। পীযুষ কান্তি ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি আপন মামাতো-ফুপাতো ভাই এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, আমার জানামতে পীযুষ কান্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের একটি আদেশ এবং তৎকালীন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার হিসাবে বেতন পাঠানো হয়েছে। তার বেতন উত্তোলনের বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক নিরাঞ্জন কুমার বোস ও কমিটির সদস্যগণ দায় এড়াতে পারেন না।
পীযুষ কান্তি ঘোষ বলেন, ২০০৯ সালে তিনি বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন এবং এরপর আর বিদ্যালয়ে যাননি। তার নামে সোনালী ব্যাংক, কালিয়া শাখায় ২৫০৩৯৯৯০১৫৩৯৪ নং হিসাব থাকলেও তিনি ওই হিসাব থেকে কোনো চেক বই বা টাকা উত্তোলন করেননি।
কীভাবে তার হিসাবে বেতন-ভাতার টাকা জমা হচ্ছে এবং সেখান থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সোনালী ব্যাংক কালিয়া শাখার ম্যানেজার মুফতিকাম বিশ্বাস বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পীযুষ কান্তির হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তার হিসাবে এখনও ২ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। যার হিসাব সেই চেক বইয়ে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করতে পারে। এখানে অন্য কারোর টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।
নড়াইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা নিয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিএনএস/রাআ
১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, তবুও ব্যাংক হিসাবে ঢুকছে বেতন
13-07-2026 01:03PM

