পিএনএস ডেস্ক: শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে ভ্যানচালক বাবা ঘুরেছেন শহর থেকে গ্রাম। কিন্তু কোনো স্কুলই মেয়েটিকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। শেষে উপায় না পেয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টিতে এখন শিক্ষার আলো পাচ্ছে দুই শর বেশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার এমন দৃষ্টান্ত বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈরের প্রত্যন্ত এলাকা শাখারপাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতই গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে দলবেঁধে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে যোগ দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কারও বয়স ১৫, আবার কারও ১২ বছর।
২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। দুই বছর পর নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন তিনি। শুরুতে তেমন শিক্ষার্থী না থাকলেও এখন বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে দুই শর বেশি প্রতিবন্ধী শিশু। সেখানে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী। লেখাপড়ার পাশাপাশি নকশিকাঁথা, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাই প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, সেলিম মিয়ার নিজ হাতে গড়া বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে খুশি অভিভাবকরা। কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে আসার পর সন্তানদের অনেক পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে কারও সঙ্গে না মিশলেও এখন খেলাধুলা করে সবার সঙ্গে। কথা বলে। বাসায় একা থাকতে ভয় পেত, সেই ভয়টিও এখন দূর হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাত সেলিম মিয়া বলেন, ইচ্ছেশক্তি আর মনোবল থাকার কারণেই এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা। এখানে দায়িত্বরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পান না। তাদের পরিবার আছে, সংসার আছে। সরকার যদি এদিকে একটু নজর দিত, তাহলে বিদ্যালয়টি আরও সাফল্য পেত।
সহকারী শিক্ষক তাপসী আক্তার বলেন, আমি ৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে শ্রম দিয়ে আসছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু মুখ ফিরে তাকাত, তাহলে আমাদের কষ্ট দূর হতো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার বলেন, বাচ্চাদের বিনা বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়। এখন প্রতিষ্ঠান আর এটি চালাতে পারছে না। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ ও জাতীয়করণ করা না হলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এটি এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিএনএস/আনোয়ার
প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ভ্যানচালক সেলিম
24-07-2026 11:43AM

