ঢাকায় স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করলো যুক্তরাষ্ট্র

  05-07-2026 12:30AM

পিএনএস ডেস্ক: সুরের মূর্ছনায় যেন অন্য এক রূপ নিয়েছিল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে বসেছিল এক সুরেলা আসর। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ট্রপিক লাইটনিং ব্যান্ডের ‘ফ্রিডম ২৫০’ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মোহনীয় সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে ছিলেন উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিদেশি অতিথিরা। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আয়োজন উপস্থিত সবার মাঝেই এক অন্যরকম ভালোলাগা উপহার দেয়।

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ‘ট্রপিক লাইটনিং ব্যান্ড’-এর সুরের মূর্ছনায় মেতে উঠেছিল অনুষ্ঠানস্থল। ব্যান্ডটি মার্কিন ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি বেশ কিছু জনপ্রিয় বাংলা গানের সুর তুলে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। ঠিক তেমনই আমেরিকার স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এক অবিস্মরণীয় অবদান। আজকের এই সঙ্গীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা শুধু বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ দেবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের প্রতি ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীর নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বাংলাদেশ আমাদের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা ও পাশে থাকা আমাদের এই গভীর অংশীদারত্বেরই প্রমাণ। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে, যেখানে দুই দেশের টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন অবদান ও যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আমরা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন