কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধন, মাঠ মাতালেন নোরা-সঞ্জয়

  13-06-2026 01:51AM

পিএনএস ডেস্ক: কানাডার ফুটবল ইতিহাসে শুক্রবারটি ছিল এক বিশেষ দিন। প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সাক্ষী হলো দেশটি। সেই উপলক্ষে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত, নৃত্য, আলো আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামজুড়ে।

মেক্সিকোতে একদিন আগে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এবার তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কানাডার প্রথম ম্যাচের আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও।

উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দেশের প্রথম অধিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত কানাডীয় গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স। তার পরিবেশনার পর লাল পোশাকে সজ্জিত একদল নৃত্যশিল্পী মঞ্চে এসে বিশাল এক সোনালি ফুটবলের আবরণ সরিয়ে দেন। এরপর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় কানাডীয় শিল্পী আলেসিয়া কারা। তিনি ‘ওয়াইল্ড থিংস’ ও ‘ফায়ার’ গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান।

তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি, ফ্রেঞ্চ হিপ-হপ শিল্পী ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়ের যৌথ পরিবেশনা। আকর্ষণীয় ড্রাম বিট, নৃত্য ও আলোকসজ্জার সমন্বয়ে তাদের পরিবেশনা মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়।

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন নোরা ফাতেহি। তার নৃত্য ও মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপ ২০২২-এর অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়া নোরা এবারও বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন।

এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্নার ‘ইলুমিনেট’ গান, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম গান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কানাডীয় শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলের পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

বিশ্বকাপের থিম, আধুনিক আলোকসজ্জা ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের বৈশ্বিক বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

টরন্টোর বিখ্যাত নেথান ফিলিপস স্কোয়ারেও ছিল বিশ্বকাপের উৎসবমুখর আবহ। টরন্টো সিটি হলের সামনের এলাকা বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়। সেখানে তৈরি করা হয় ছোট আকারের ফুটবল মাঠ। দিনভর সমর্থকদের ভিড়, ফুটবল খেলা, ছবি তোলা এবং উৎসবের আমেজে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডও। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬। আয়োজকদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে টরন্টো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। সেই ম্যাচের আগে জাঁকজমকপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন