পিএনএস ডেস্ক: একের পর এক আক্রমণ টেকিয়ে নায়কে পরিণত হয়েছেন কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদার। তার দুর্দান্ত প্রতিরোধে প্রথমার্ধে আরও বড় ব্যবধানে এগোতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। তবুও ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সুইসরা।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার সান্তা ক্লারায় (লেভিস স্টেডিয়ামে) ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় মিনিটেই এমবোলোর শট ব্লক হয়, এরপর ড্যান এনদোয়ে বিপজ্জনক অবস্থানে পড়ে যান। তবে তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি পায় কাতার। সুইস রক্ষণভাগের ভুলে এডমিলসন জুনিয়র একাই গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের সামনে চলে যান, কিন্তু তার ডান পায়ের শট সরাসরি কোবেলের গায়ে লাগে।
এরপর একের পর এক আক্রমণ চালায় সুইজারল্যান্ড। ষষ্ঠ মিনিটে মিশেল অ্যাবিশারের নিখুঁত পাসে এনদোয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু নিচু হয়ে দারুণ সেভ করেন আবুনাদা। ১০ মিনিটে আবারও গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এনদোয়ে। রিকার্দো রদ্রিগেজের নিচু ক্রসে একেবারে ফাঁকায় থেকেও তিনি বল উড়িয়ে মারেন গোলবারের ওপর দিয়ে।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে আসে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ডেনিস জাকারিয়ার উঁচু ক্রসে এমবোলো হেড করে বল নামিয়ে দেন রেমো ফ্রয়লারের সামনে। কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদা বেরিয়ে এসে ফ্রয়লারকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ভিএআর পরীক্ষা শেষে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
১৭তম মিনিটে স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি এমবোলো। ধীরস্থির ভঙ্গিতে শট নিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালের বাম কোণে, ভুল পথে ঝাঁপ দেন আবুনাদা। বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এটি ছিল সুইজারল্যান্ডের হয়ে এম্বোলোর ষষ্ঠ গোল।
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সুইজারল্যান্ড। ২১ মিনিটে জাকারিয়ার শট আবারও রুখে দেন আবুনাদা। ২৩ মিনিটে জাসেম গাবের হলুদ কার্ড দেখেন। প্রথম হাইড্রেশন বিরতির সময় পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের দাপট এতটাই ছিল যে প্রথম ১৫ মিনিটে তাদের বল দখলের হার ছিল ৮৩ শতাংশ।
২৯ মিনিটে কাতার প্রথম কর্নার পায়। আকরাম আফিফের কর্নার থেকে ইসা লায়ের হেড চলে যায় অনেক ওপর দিয়ে। ৩৫ মিনিটে এম্বোলোর পাস থেকে আবার সুযোগ পান এনদোয়ে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ৪১ মিনিটে অ্যাবিশারের ক্রস-শটও কঠিনভাবে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আবুনাদা।
প্রথমার্ধের শেষদিকে কাতার কিছুটা জেগে ওঠে। ৪৩ মিনিটে ইউসুফ আবদুরিসাগের পাস থেকে এডমিলসন জুনিয়র গোলের সুযোগ পেলেও কোবেল পা বাড়িয়ে বল কর্নারে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে আবারও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে সুইজারল্যান্ড।
৪৫+১ মিনিটে এনদোয়ের শক্তিশালী ভলিও ঠেকিয়ে দেন আবুনাদা। ৪৫+৩ মিনিটে এম্বোলোর পাস থেকে রুবেন ভার্গাস নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও আবুনাদা অসাধারণ সেভ করেন। আর ৪৫+৫ মিনিটে এম্বোলোর পাসে অ্যাবিশারের শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আয়ুব আল উই।
প্রথমার্ধ শেষে পরিসংখ্যানেও সুইজারল্যান্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়। তাদের প্রত্যাশিত গোল ছিল ২.১৭, যেখানে কাতারের ছিল মাত্র ০.৪৫। আবুনাদা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে কাতারকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে অপটার লাইভ জয় সম্ভাবনা অনুযায়ী বিরতিতে সুইজারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা দাঁড়ায় ৯১.৮ শতাংশ।
তবে মাত্র এক গোলের ব্যবধান থাকায় দ্বিতীয়ার্ধে এখনও আশা ছাড়ছে না কাতার। আবুনাদার নৈপুণ্যে বেঁচে থাকা স্বাগতিকরা এখন অপেক্ষায় ঘুরে দাঁড়ানোর, আর সুইজারল্যান্ড চাইবে সুযোগ নষ্টের খেসারত না দিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচ নিশ্চিত করতে।
পিএনএস/রাআ
কাতারের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড
14-06-2026 02:47AM

