পিএনএস ডেস্ক: এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘দুর্ভাগা’ দল বলা চলে ইরানকে। যুক্তরাষ্ট্রে সবগুলো ম্যাচের ভেন্যু হলেও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শেষ মুহূর্তে তারা বেসক্যাম্প সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ছিল তাদের বেসক্যাম্প। মাঠের খেলাতেও দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্বেই। তবে তিজুয়ানার মানুষরা যেভাবে আতিথেয়তা দিয়েছে, তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান ফুটবল দল।
তাদের প্রতি দেখানো আতিথেয়তার জন্য মেক্সিকোর তিজুয়ানা শহরের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেক্সিকো এখন থেকে তাদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি এবং দ্বিতীয় দল’। বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা দলের প্রতি তারা সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে। আগামীকাল সকালে শেষ ৩২ এর ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপের মূল ঘাঁটি অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তিজুয়ানাতে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানি দলকে প্রথমে ম্যাচ শুরুর মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে এবং সিয়াটলে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের দুই দিন আগে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। তবে ম্যাচ শেষে দলটিকে আবারও মেক্সিকোর ঘাঁটিতেই ফিরে যেতে হয়েছিল।
ইরান দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ‘প্রকৃত আতিথেয়তা মানে হলো সম্মান, মানবিকতা এবং মর্যাদা। আমরা তিজুয়ানার মানুষের এই উদারতা কখনোই ভুলব না। আজ থেকে মেক্সিকো আমাদের কাছে সবসময় একটি আয়োজক দেশের চেয়েও বেশি কিছু; এটি হবে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি এবং আমাদের দ্বিতীয় দল।’
এর আগে টুর্নামেন্টের শুরুতে সোফাই স্টেডিয়ামের লকার রুমেও ইরান একটি বার্তা রেখে এসেছিল। গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ আয়োজন করার জন্য তারা লস অ্যাঞ্জেলেসকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল সেই চিঠিতে।
তবে দলের কোচ আমির ঘালিনোই এবং অধিনায়ক মেহেদি তারেমি দুজনেই টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতো তাদের সঙ্গে একই আচরণ করা হয়নি এবং সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
দলের বিবৃতিতে প্রতিযোগিতামূলক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারা জানায়, ‘আমরা গর্ব নিয়ে এই বিশ্বকাপ ছেড়ে যাচ্ছি, তবে একটি মৌলিক প্রশ্নও রেখে যাচ্ছি: প্রতিটি দল কি সত্যিই সমান পরিস্থিতি এবং সমান পেশাদার মানদণ্ডের অধীনে খেলতে পেরেছিল?’
ইরান সরাসরি ফিফা, টুর্নামেন্ট আয়োজক বা মার্কিন কর্তৃপক্ষের নাম উল্লেখ না করেনি। তবে তারা ‘এমন কিছু সিদ্ধান্ত, লজিস্টিক ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতির’ দিকে ইঙ্গিত করেছে যা খেলার নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। উল্লেখ্য, মিসরের বিরুদ্ধে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইনজুরি টাইমে করা একটি গোল সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়, যে গোলটা হলে তারা শেষ ৩২ এ উঠতে পারত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের কাছে ফেয়ার প্লে কোনো বিজ্ঞাপনী বোর্ডের স্লোগান নয়; এটি ফুটবলের মূল পরিচয়। তবে এই টুর্নামেন্ট আমাদের মনে করিয়ে দিলো যে, অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ও অর্থপূর্ণ পদক্ষেপের মধ্যে এখনও অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে।’
অবশ্য প্রতিপক্ষ মিসরকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, ‘বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। কর্মকর্তারাও বদলে যান। কিন্তু ইরান, মিসর এবং মেক্সিকোর মতো সভ্যতা—যা সত্য, সম্মান এবং মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে তা ইতিহাসের পাতায় চিরকাল টিকে থাকে।’
পিএনএস/রাআ
বিদায়ের পর ‘দ্বিতীয় দল’ মেক্সিকোকে সমর্থন ইরানের
01-07-2026 01:20AM

