ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মুসাব্বিরকে হত্যা: ডিবি

  11-01-2026 06:17PM

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কারওয়ান বাজার সংলগ্ন তেজতুরী বাজার এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শুটার জিন্নাত, কিলিং মিশনের মূল সমন্বয়ক মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির, ঘটনার আগের দিন রেকি করা মোহাম্মদ রিয়াজ। আব্দুল কাদির হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়কারী বিল্লালের চাচা ও ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী। এ ঘটনায় রহিম নামের আরও একজন পলাতক রয়েছে, যিনি জিন্নাতের আপন ভাই এবং দ্বিতীয় শুটার বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার ও শনিবার ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই ডিবির একাধিক টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। যেহেতু মামলাটি অজ্ঞাতনামা ছিল, তাই প্রথমে আসামিদের শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওপেন সোর্স তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হই।

তিনি আরও বলেন, এরপর ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বর-প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

হত্যার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো নেপথ্য ইন্ধন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এর পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, বা কেউ অর্থের বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না—সেসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পলাতক দ্বিতীয় শুটার রহিমকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাজধানী কারওয়ান বাজার এলাকার তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের গলিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির (৪৫) নিহত হন। এঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এএইচএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন