সফর মাসের ফজিলত ও আমল

  18-07-2026 08:55PM

পিএনএস ডেস্ক: ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস হলো সফর। জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এই তিনটি সম্মানিত মাসের পরই আসে সফর। আরবি ‘সফর’ শব্দের অর্থ শূন্য বা খালি। ইসলামপূর্ব আরব সমাজে এই মাসে মানুষ যুদ্ধ বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। ফলে অনেক শহর ও জনপদ প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ত। এ কারণেই মাসটির নাম ‘সফর’ হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

জাহেলি যুগে আরবদের মধ্যে সফর মাস নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। তারা মনে করত, এ মাস অশুভ এবং এতে বিপদ-আপদ ও নানা অকল্যাণ নেমে আসে। তবে ইসলাম এসব কুসংস্কারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো মাস বা সময় নিজে থেকে অশুভ নয়। পেঁচাকে অশুভ মনে করা এবং সফর মাসকে অকল্যাণের কারণ ভাবারও কোনো ভিত্তি নেই। (সহিহ বুখারি: ৫৭৫৭)

ইসলামের দৃষ্টিতে সময় নিজে ভালো বা মন্দ নয়। মানুষের কাজের কারণে কোনো সময়ে ভালো বা খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু সময়ের নিজস্ব কোনো অশুভ শক্তি নেই। রাসুল (সা.) সময়কে গালি দিতেও নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কেউ সময়কে গালি দিও না; কারণ আল্লাহই সময়।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৮২৭)

অর্থাৎ সময়ের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহ। পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, সবই তার ইচ্ছা ও নির্ধারণের অধীন। তাই কোনো মাসকে অশুভ মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

ইসলামের ইতিহাসেও সফর মাসে মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য কিছু বিজয়ের ঘটনা রয়েছে। সপ্তম হিজরির সফর মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা খায়বার বিজয় করেন। আবার ১৬ হিজরির সফর মাসে হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে মুসলমানরা পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী মাদায়েন জয় করেন।

অন্য সব মাসের মতো সফর মাসও ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ। প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা মুস্তাহাব। এই তিন দিনকে ‘আইয়ামে বিজ’ বলা হয়। মিলহান আল-কায়সী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই তিন দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন, এটি সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৪৯)

এ ছাড়া রাসুল (সা.) প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। সফর মাসে মুসলমানরা এসব নফল রোজা পালনের পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে মাসটিকে বরকতময় করে তুলতে পারেন। ইসলামের শিক্ষা হলো কোনো মাসকে অশুভ মনে না করে প্রতিটি সময়কে আল্লাহর ইবাদত ও সৎকাজে কাজে লাগানো।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন