পিএনএস ডেস্ক: টেন্ডারে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবির অভিযোগে এলজিইডির হবিগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ঠিকাদার।
রোববার (২৬ জুলাই) মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এর আগে, হবিগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলার রিচি গ্রামের ঠিকাদার মো. জুবাঈদ মিয়া।
মামলার আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান। অপর দুই আসামি হলেন- টেন্ডারে অংশ নেওয়া দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এলজিইডির আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী-বুরিনাও সড়কের উন্নয়ন, ইউ-ড্রেনেজ, বক্স কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, জালিয়াতি ও কারসাজি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বাদীর প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার যোগ্য হলেও টেন্ডার চলাকালে তার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে বঞ্চিত করে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী।
মামলার সাক্ষী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর টিপু আহমেদ জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম তাকে অফিসে ডেকে একটি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে জামাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই ঠিকাদার জুবাঈদ মিয়া আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন এবং রোববার দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। ওই সময় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাউন্সিলর টিপু আহমেদ দুটি পৃথক লাইসেন্সে টেন্ডার জমা দেন। তবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে জামাল এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। টিপু আহমেদের একটি লাইসেন্স দ্বিতীয় এবং অন্যটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এর মধ্যে একটি লাইসেন্সের সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি বিধান অনুযায়ী ২০ লাখ টাকার টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এলজিইডির নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জুম্মন শাহ বলেন, আমি এখানে একেবারেই নতুন এসেছি। আসলে বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।
পিএনএস/রাআ
টেন্ডার জালিয়াতি-ঘুস দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
27-07-2026 12:54AM

