মেঘনা নদী থেকে নারীর টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

  27-07-2026 01:08AM

পিএনএস ডেস্ক: কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁঠালিয়া নদীর চরাংশের দখল কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে কোহিনূর বেগম (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে মেঘনা উপজেলার আলিপুর ও চর বিনোদপুর এবং তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত কোহিনূর বেগম মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর গ্রামের শাকিল মিয়ার স্ত্রী। আহতদের উদ্ধার করে তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বপন মিয়া (২৭), সাগর মিয়া (৪০) ও জসিম উদ্দিনকে (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা ও তিতাস উপজেলার মধ্যবর্তী কাঁঠালিয়া নদীর চরাঞ্চল দখল নিয়ে তিতাসের চরভাটেরা ও মেঘনার চর বিনোদপুর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার দুপুরে চরভাটেরা গ্রামের প্রবাস ফেরত শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় গেলে চর বিনোদপুরের আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

এরই জেরে বিকেলে মেঘনার আলিপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দারা টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং অন্তত ২০ জন টেঁটাবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে নদী থেকে কোহিনূর বেগমের টেঁটাবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, চরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক নারী নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক জানান, ঘটনাস্থল মেঘনা থানা এলাকায় হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিতাস থানা পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন