আগে হতো ভোট চুরি, বিএনপি করেছে ভোটের ফল চুরি

  28-07-2026 12:06AM

পিএনএস ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “অন্য সরকারের সময় ভোট চুরি হতো আর ২০২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি ভোটের ফলাফল চুরি করেছে।”

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে মিডনাইট ইলেকশন হয়েছে, ২০২৪ সালে হয়েছে আমি-ডামির নির্বাচন। সবশেষ ২০২৬ সালের যে নির্বাচনটি হলো, সে নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে। তবে, সেটা ফলাফলের পরে। অন্যান্য সরকার ভোট চুরি করত আর এই বিএনপি সরকার ভোটের ফলাফল চুরি করেছে।”

বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিএনপির লোকজন বসানো হয়েছে। একই কায়দায় গত পরশু ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান বিএনপি বাস্তবে ধারণ করে না। তারা বিশ্বাস করে, সবার আগে রাজনৈতিক দল, সবার আগে শুধু দলীয়করণ। আওয়ামী লীগের মতো ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো করে বিএনপিও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়েল নীলনকশা এখন থেকেই শুরু করা হয়েছে।”

এনসিপির অন্যতম শীর্ষ এই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ভোটে জনগণ যাদেরকে রেড কার্ড দেখিয়েছে, এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক পদে বসাচ্ছে। তারা প্রশাসক পদে বসে বিএনপির দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত হচ্ছে।”

পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের লাখো কোটি জনতা অংশগ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সেই বিপ্লবে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে, অসংখ্য মানুষ চোখে দেখতে পায় না, ভালো করে হাঁটতে পারে না। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বাংলাদেশের প্রতীক ৩৬ জুলাই স্তম্ভ। এই স্তম্ভ যখন দেখে, আওয়ামী লীগের মাথা গরম হয়ে যায়। অথচ, এই স্তম্ভের কোনো জীবন নেই, তবু ওরা বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কারণ, এই স্তম্ভে যেসব উক্তি লেখা আছে, সেসব উক্তিই আওয়ামী লীগের সিংহাসনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।”

পদযাত্রা ও পথসভায় আরো অংশ নেন— এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, মোল্লা ফারুক এহসান, নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, চুয়াডাঙ্গা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন।

পথসভায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবকে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন